প্রতিবেদক : বিডিএস বুলবুল আহমেদ
ঢাকা: সমাজসেবায় অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ‘গুণিজন সম্মাননা-২০২৫’ পেলেন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘সুরভি’র প্রতিষ্ঠাতা সৈয়দা ইকবাল মান্দ বানু। তিনি বাংলাদেশ সরকারের সাবেক মন্ত্রী ও নৌবাহিনী প্রধান রিয়ার অ্যাডমিরাল মাহবুব আলী খানের সহধর্মিণী এবং বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের শাশুড়ি।
মঙ্গলবার (১৬ ডিসেম্বর) মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে রাজধানীর ধানমন্ডি ৪নং খেলার মাঠে আয়োজিত দুই দিনব্যাপী (১৫ ও ১৬ ডিসেম্বর) ‘বিজয় মেলা ও সাংস্কৃতিক উৎসব’-এ তাকে এই সম্মাননা স্মারক প্রদান করে ধানমন্ডি সোসাইটি। ‘শান্তি সমৃদ্ধি ভালোবাসা’ স্লোগানকে ধারণ করে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে সমাজের বিভিন্ন স্তরের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক ইতিহাসে ১৯৫০-এর দশক ছিল অধিকার আদায়ের। সেই সময়ে বেড়ে ওঠা প্রজন্মের প্রতিনিধি হিসেবে সৈয়দা ইকবাল মান্দ বানু সবসময়ই মানবতার সেবায় নিজেকে নিয়োজিত রেখেছেন। ১৯৭৫ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর এবং ১৯৭৯ সালের ১ ফেব্রুয়ারি যখন দেশের সামাজিক অস্থিরতা বিদ্যমান ছিল, ঠিক তখন মাত্র একজন ছাত্রী নিয়ে তিনি ‘সুরভি’র যাত্রা শুরু করেন।
বিগত ৪৬ বছরে সুরভি প্রায় ২৮ লাখ শিশু-কিশোরকে সুশিক্ষায় শিক্ষিত করে তুলেছে। ১৯৭৯ থেকে ২০২৫—এই দীর্ঘ সাড়ে চার দশকে দেশের অবহেলিত এবং সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে তার অবদান আজ সর্বজনস্বীকৃত।
সৈয়দা ইকবাল মান্দ বানু তার রচিত ‘ঝরাপাতা’ কবিতা সমগ্রের মাধ্যমে সমাজের অবহেলিত শিশুদের জীবনের করুণ চিত্র ফুটিয়ে তুলেছিলেন। তার দর্শন ছিল— "সমাজের অগণিত অবহেলিত শিশু-কিশোর যেন ঝরাপাতার মতো ঝরে না পড়ে।" তাদের সঠিক পথ দেখিয়ে যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলাই ছিল তার জীবনের মূল লক্ষ্য। উল্লেখ্য, তিনি বিশিষ্ট কার্ডিওলোজিস্ট ডা. জোবাইদা রহমানের গর্বিত মাতা।
২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার বিপ্লবের পর ২০২৫ সালের এই বিজয় দিবসটি দেশজুড়ে ভিন্ন আমেজে পালিত হচ্ছে। ধানমন্ডির এই উৎসবে ‘সুরভি’র পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন মো. শাহারিয়ার কবির, স্মৃতি আক্তার, মোহাম্মদ সোহেল, সামিনা আক্তার ও রুবি আক্তার প্রমুখ। বক্তারা বলেন, ১৯৫০-এর দশকের মানবিক মূল্যবোধ আর ২০২৫-এর নতুন বাংলাদেশের আকাঙ্ক্ষা যেন সৈয়দা ইকবাল মান্দ বানুর মতো সমাজসেবকদের কাজের মাধ্যমে এক সুতায় গাঁথা হয়েছে।
অনুষ্ঠানে ধানমন্ডি সোসাইটির প্রতিনিধিরা বলেন, "সৈয়দা ইকবাল মান্দ বানুর মতো ব্যক্তিত্বরা আমাদের সমাজের বাতিঘর। তিনি নিভৃতে গত ৪৬ বছর ধরে যে শিক্ষা বিপ্লব ঘটিয়েছেন, তা নতুন প্রজন্মের কাছে অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।"
সূত্র: ধানমন্ডি সোসাইটি প্রেস রিলিজ, সুরভি আর্কাইভ এবং রাজধানীর স্থানীয় সংবাদ।
বিশ্লেষণ: সৈয়দা ইকবাল মান্দ বানুর এই সম্মাননা প্রাপ্তি কেবল একজন ব্যক্তির স্বীকৃতি নয়, বরং গত চার দশকের নিভৃত সমাজসেবার জয়। ১৯৭৯ সালে শুরু হওয়া একটি ক্ষুদ্র উদ্যোগ ২০২৫ সালে এসে ২৮ লাখ মানুষের জীবনে আলো ছড়াচ্ছে—এটি বাংলাদেশের এনজিও এবং সামাজিক আন্দোলনের ইতিহাসে একটি মাইলফলক। তার পরিবারিক পরিচয় (মাহবুব আলী খানের স্ত্রী ও তারেক রহমানের শাশুড়ি) রাজনীতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলেও, সমাজসেবক হিসেবে তার স্বতন্ত্র পরিচয় আজ অনন্য উচ্চতায়।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |